কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী ফিকাহ প্রথম পর্ব - তাওহীদ ও ঈমান মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আত্তুওয়াইজিরী ১ টি

শিরকের সংজ্ঞা: শির্ক হচ্ছে আল্লাহর রবূবিয়াতে (কাজে), আসমা ওয়াস্সিফাতে (নাম ও গুণাবলীতে) এবং উলূহিয়াতে (বান্দার সকল ইবাদতে) অথবা এর কোন একটিতে কোন কিছুকে শরিক স্থাপনের করার নাম। সুতরাং, মানুষ যখন এ বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহর সঙ্গে আর কেউ সৃষ্টিকর্তা বা সাহায্যকারী আছে তখন সে মুশরিক। আর যে এ বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদতের হকদার সেও মুশরিক। আর যে এ মনে করবে যে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে অন্য কেউ সদৃশ আছে সেও মুশরিক।

শির্কের ভয়াবহতা:

১. শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম; কারণ ইহা আল্লাহর একান্ত বিশেষ হক তাওহীদের ব্যাপারে সীমালঙ্খন। তাওহীদ হলো সবচেয়ে বড় ইনসাফ। পক্ষান্তরে শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম ও ঘৃণ্যতা; কারণ এতে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালককে ছোট করা হয় এবং তাঁর আনুগত্য থেকে অহংকার করা হয়। এ ছাড়া আল্লাহর বিশেষ হক অন্যের জন্য সাব্যস্ত করা হয়। শিরকের ভয়াবহতা কঠিন, যার ফলে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে মুশরিক হয়ে সাক্ষাৎ করবে তিনি তাকে কস্মিনকালেও ক্ষমা করবেন না।

যেমন আল্লাহর বাণী:

اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَکَ بِهٖ وَ یَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰهِ فَقَدِ افۡتَرٰۤی اِثۡمًا عَظِیۡمًا ﴿۴۸﴾


‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে অংশীস্থাপন করলে তাকে ক্ষমা করবেন না এবং এর চেয়ে ছোট পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন।’’ [সূরা নিসা: ৪৮]

শির্ক সবচেয়ে বড় জুলুম তথা অন্যায়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করল সে ইবাদতকে যথাস্থানে রাখল না এবং যে হকদার না তার জন্য নির্দিষ্ট করল, যা সবচেয়ে বড় জুলুম। যেমন আল্লাহর বাণী:

اِنَّ الشِّرۡکَ لَظُلۡمٌ عَظِیۡمٌ ﴿۱۳﴾

‘‘নিশ্চয় শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম।’’ [সূরা লোকমান:১৩]

শির্ক সমস্ত সৎ আমলকে পন্ড করে দেয় এবং ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্তের দিকে ঠেলে দেয়। আর ইহা সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ।

১. আল্লাহর বাণী:

وَ لَقَدۡ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ وَ اِلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ لَئِنۡ اَشۡرَکۡتَ لَیَحۡبَطَنَّ عَمَلُکَ وَ لَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۶۵﴾

‘‘তোমার প্রতি ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই অহি হয়েছে, তুমি আল্লাহর শরিক স্থির করলে তোমার কর্ম পন্ড হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত। ’’ [সূরা জুমার: ৬৫]


عَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:্র أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ؟ ثَلَاثًا قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ:্র الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَجَلَسَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ أَلاَ وَقَوْلُ الزُّورِ قَالَ فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلْنَا لَيْتَهُ سَكَتَ  متفق عليه.


২. আবু বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জানিয়ে দেব না? রসূল (সা.) এভাবে তিনবার বললেন। তাঁরা (সাহাবাগণ) বললেন: হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: ‘‘আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া। রসূল (সা.) এবার হেলান দেয়া অবস্থা থেকে উঠে বসে বললেন: সাবধান! মিথ্যা কথা থেকে সাবধান! বর্ণনাকারী বলেন: এ কথাটি রসূল (সা.) বারবার বলতেছিলেন এমনকি আমরা বলতে ছিলাম: হায়! যদি তিনি চুপ করতেন।’’[1]


শিরকের ঘৃণ্যতা ও কুপ্রভাব:

আল্লাহ তা‘য়ালা শিরকের চারটি ঘৃণ্যতা ও কু-পরিণতি সম্পর্কে চারটি আয়াতে উল্লেখ করেছেন তা হলো:

১. আল্লাহর বাণী:

اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَکَ بِهٖ وَ یَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ ۚ وَ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰهِ فَقَدِ افۡتَرٰۤی اِثۡمًا عَظِیۡمًا ﴿۴۸﴾


‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে অংশীস্থাপন করলে তাকে ক্ষমা করবেন না এবং এর চেয়ে ছোট পাপ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন। আর যে শিরক করল সে বড় ধরনের অপবাদ ধারণ করল।’’ [সূরা নিসা: ৪৮]

আল্লাহর বাণী:

وَ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰهِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا ﴿۱۱۶﴾

‘‘আর যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করল সে বহু দূরের ভ্রষ্টতায় পতিত হলো।’’ [ সূরা নিসা: ১১৬ ]

আল্লাহর বাণী:

اِنَّهٗ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰهِ فَقَدۡ حَرَّمَ اللّٰهُ عَلَیۡهِ الۡجَنَّۃَ وَ مَاۡوٰىهُ النَّارُ ؕ وَ مَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ اَنۡصَارٍ ﴿۷۲﴾

‘‘নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর অংশীস্থাপন করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নামে। আর এরূপ অত্যাচারীদের জন্যে কোন সাহায্যকারী হবে না।’’  [সূরা মায়েদা:৭২]


আল্লাহর বাণী:

وَ مَنۡ یُّشۡرِکۡ بِاللّٰهِ فَکَاَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَآءِ فَتَخۡطَفُهُ الطَّیۡرُ اَوۡ تَهۡوِیۡ بِهِ الرِّیۡحُ فِیۡ مَکَانٍ سَحِیۡقٍ ﴿۳۱﴾


‘‘আর যে আল্লাহর সাথে শিরক করল; সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল। অত:পর মৃতভোজী পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোন দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।’’ [সূরা হাজ্ব: ৩১]

 

মুশরিকদের শাস্তি:

আল্লাহর বাণী:

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا مِنۡ اَهۡلِ الۡکِتٰبِ وَ الۡمُشۡرِکِیۡنَ فِیۡ نَارِ جَهَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ؕ اُولٰٓئِکَ هُمۡ شَرُّ الۡبَرِیَّۃِ ؕ﴿۶﴾

‘‘নিশ্চয় মুশরিক ও আহলে কিতাবের যারা কুফরি করেছে তাদের স্থান জাহান্নামে। সেখানে তারা চিরস্থায়ী অবস্থান করবে। তারাই হলো সর্বনিকৃষ্ট সৃষ্টিজীব।’’ [সূরা বাইয়িনা: ৬]

 

আরো আল্লাহর বাণী:

اِنَّ الَّذِیۡنَ یَکۡفُرُوۡنَ بِاللّٰهِ وَ رُسُلِهٖ وَ یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یُّفَرِّقُوۡا بَیۡنَ اللّٰهِ وَ رُسُلِهٖ وَ یَقُوۡلُوۡنَ نُؤۡمِنُ بِبَعۡضٍ وَّ نَکۡفُرُ بِبَعۡضٍ ۙ وَّ یُرِیۡدُوۡنَ اَنۡ یَّتَّخِذُوۡا بَیۡنَ ذٰلِکَ سَبِیۡلًا ﴿۱۵۰﴾ۙ  اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡکٰفِرُوۡنَ حَقًّا ۚ وَ اَعۡتَدۡنَا لِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابًا مُّهِیۡنًا ﴿۱۵۱﴾

‘‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী তদুপরি আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসে তারতম্য করতে চায় আর বলে যে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি আর কতককে প্রত্যাখ্যান করি এবং এরই মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে এরাই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী। আর যারা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছি অপমানজনক আজাব।’’ [সূরা নিসা:১৫০-১৫১]

 

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ  قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :্রمَنْ مَاتَ وَهْوَ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ  متفق عليه.

    আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী [সা.] বলেছেন:‘‘যে ব্যক্তি শিরক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জান্নামে প্রবেশ করবে।’’[2]


শিরকের ভিত্তি:

শিরকের ভিত্তি ও ঘাঁটি যার উপর শিরকের বুনিয়াদ তা হলো গাইরুল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কেউ)-এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন। আর যে গাইরুল্লাহ এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে, আল্লাহ তাকে যার সঙ্গে সে সম্পর্ক করেছে তার দিকে সোপর্দ করে দিবেন। তার দ্বারা তাকে শাস্তি দিবেন এবং যার সঙ্গে সম্পর্ক জুড়েছে সেদিক থেকে অপদস্ত করবেন। যার ফলে সে সবার নিকট ঘৃণিত হবে কেউ তার প্রশংসাকারী থাকবে না। অপদস্ত হবে কেউ তার সাহায্যকারী হবে না। যেমন আল্লাহ বলেন:

لَا تَجۡعَلۡ مَعَ اللّٰهِ اِلٰـهًا اٰخَرَ فَتَقۡعُدَ مَذۡمُوۡمًا مَّخۡذُوۡلًا ﴿۲۲﴾

‘‘আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করো না। তাহলে তুমি নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে।’’ [সূরা বনি ইসরাঈল: ২২]


শিরকের সূক্ষ বুঝ:

আল্লাহর সাথে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলীতে, তাঁর বিধানে, তাঁর ইবাদতে শিরক করা। এ হলো শিরকের প্রকারসমূহ। প্রথমটি হলো রবুবিয়াতে শিরক। দ্বিতীয়টি হলো আনুগত্যে শিরক। তৃতীয়টি হলো ইবাদতে শিরক। আল্লাহ তা‘য়ালা হলেন সুমাহন একমাত্র প্রতিপালক এবং সমস্ত সৃষ্টিরাজির একমাত্র সৃষ্টিকর্তা।

আর আল্লাহর সাথে তাঁর বিধানে শিরক করা তাঁর ইবাদতে শিরক করার মতই। দু’টিই বড় শিরক যা মিল্লাতে ইসলাম থেকে খারিজ করে দেয়; কারণ ইবাদত একমাত্র আল্লাহর হক যাঁর কোন শরিক নেই। যেমন আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী:

فَمَنۡ کَانَ یَرۡجُوۡا لِقَآءَ رَبِّهٖ فَلۡیَعۡمَلۡ عَمَلًا صَالِحًا وَّ لَا یُشۡرِکۡ بِعِبَادَۃِ رَبِّهٖۤ اَحَدًا ﴿۱۱۰﴾

‘‘অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’’ [সূরা কাহাফ:১১০]

বিধান ফয়সালা করা একমাত্র আল্লাহর অধিকার। যেমন আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

لَهٗ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ اَبۡصِرۡ بِهٖ وَ اَسۡمِعۡ ؕ مَا لَهُمۡ مِّنۡ دُوۡنِهٖ مِنۡ وَّلِیٍّ ۫ وَّ لَا یُشۡرِکُ فِیۡ حُکۡمِهٖۤ اَحَدًا ﴿۲۶﴾


‘‘নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তেৃত্বে শরিক করেন না।’’ [সূরা কাহাফ:২৬]

যে কেউ আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান ছেড়ে অন্য কারো বিধান দ্বারা ফয়সালা করবে সে কাফের ও মুশরিক। আর তার প্রতিপালক হবে সেই যার দ্বারা ইবলীস শয়তান মানব রচিত বিধান প্রণয়ন করেছে। যেমন আল্লাহ তা‘য়ালার বাণী:

اِتَّخَذُوۡۤا اَحۡبَارَهُمۡ وَ رُهۡبَانَهُمۡ اَرۡبَابًا مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَ الۡمَسِیۡحَ ابۡنَ مَرۡیَمَ ۚ وَ مَاۤ اُمِرُوۡۤا اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡۤا اِلٰـهًا وَّاحِدًا ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ سُبۡحٰنَهٗ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ﴿۳۱﴾


‘‘তারা তাদের পন্ডিত ও দরবেশদেরকে তাদের পালনকর্তারূপে গ্রহণ করেছে আল্লাহ ব্যতীত এবং মরিয়মের পুত্রকেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল একমাত্র মাবুদের ইবাদতের জন্য। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারা তাঁর শরিক সাব্যস্ত করে, তার থেকে তিনি পবিত্র।’’ [তাওবা:৩১]

আর শয়তানের ইবাদত হলো তার নিয়ম-কানুনে অনুগত হওয়া যার দ্বারা মানুষকে সে শিরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়। আল্লাহ তা‘য়ালা এই শত্রু থেকে আমাদেরকে সাবধান করেছেন। যেমন আল্লাহর বাণী:

اَلَمۡ اَعۡهَدۡ اِلَیۡکُمۡ یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوا الشَّیۡطٰنَ ۚ اِنَّهٗ لَکُمۡ عَدُوٌّ مُّبِیۡنٌ ﴿ۙ۶۰﴾  وَّ اَنِ اعۡبُدُوۡنِیۡ ؕؔ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِیۡمٌ ﴿۶۱﴾


‘‘হে বনি আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখেনি যে, শয়তানের ইবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। আর আমার ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।’’ [সূরা ইয়াসীন:৬০-৬১]

আর যেসব কাফেররা মূর্তিকে সেজদা করে তারা কাফের ও ফাজের। যখন তারা আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করে শয়তানের বিধানের অনুগত হয়েছে তখন তারা এর দ্বারা তাদের পুরাতন কুফরির সাথে নতুন আর এক কুফরি সংযুক্ত করেছে। যেমন আল্লাহ তা‘য়ালা বলেন:

اِنَّمَا النَّسِیۡٓءُ زِیَادَۃٌ فِی الۡکُفۡرِ یُضَلُّ بِهِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُحِلُّوۡنَهٗ عَامًا وَّ یُحَرِّمُوۡنَهٗ عَامًا لِّیُوَاطِـُٔوۡا عِدَّۃَ مَا حَرَّمَ اللّٰهُ فَیُحِلُّوۡا مَا حَرَّمَ اللّٰهُ ؕ زُیِّنَ لَهُمۡ سُوۡٓءُ اَعۡمَالِهِمۡ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۳۷﴾

‘‘এই মাস পিছিয়ে দেয়ার কাজ কেবল কুফরির মাত্রা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কাফেররা গোমরাহীতে পতিত হয়। এরা হালাল করে নেয় একে এক বছর এবং হারাম করে নেয় অন্য বছর, যাতে তারা গণনা পূর্ণ করে নেয় আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোকে। অত:পর হালাল করে নেয় আল্লাহর হারামকৃত মাসগুলোকে। তাদের মন্দ কাজগুলো তাদের জন্যে শোভনীয় করে দেয়া হল। আর আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।’’ [সূরা তাওবা:৩৭]

[1]. বুখারী হাঃ নং ২৬৫৪ ও মুসলিম হাঃ নং ৮৭
[2]. বুখারী হাঃ নং ৪৪৯৭ ও মুসলিম হাঃ নং ৯২